অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২০ অক্টোবর ২০২০

মাননীয় মন্ত্রী

 

আ হ ম মুস্তফা কামাল, এফসিএ, এমপি

মাননীয় মন্ত্রী

অর্থ মন্ত্রণালয়

 

জনাব আ হ ম মুস্তফা কামাল এফসিএ, এমপি ৭ জানুয়ারী ২০১৯ তারিখ থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে উন্নয়ন রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ২০৩০ সফলভাবে অর্জন করার জন্য নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন জনাব মুস্তফা কামাল।
 জনাব আ হ ম মুস্তফা কামাল ১৯৪৭ সালের ১৫ জুন কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা ইউনিয়নের দুতিয়াপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম বাবরু মিয়া, মাতা মরহুমা সায়রা বেগম।
আ হ ম মুস্তফা কামাল দত্তপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা, ১৯৬২ সালে বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, পরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি, ১৯৬৪-১৯৬৭ সালে চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ থেকে বিকম (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৭-৬৮ শিক্ষাবর্ষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাউন্টেন্সি ও আইন বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন এবং ১৯৭০ সালে তদানীন্তন পুরো পাকিস্তানে চার্টার্ড একাউনটেন্সি (সিএ) পরীক্ষায় মেধা তালিকায় সম্মিলিতভাবে প্রথম স্থান অর্জন করেন। রেকর্ড সংখ্যক মার্ক নিয়ে পাস করে ‘লোটাস’ খ্যাতি পাওয়া তদানিন্তন পাকিস্তানে চার্টার্ড একাউন্টেন্সী পরীক্ষায় তিনিই একমাত্র বাঙ্গালী যিনি প্রথম স্থান অর্জন করার এক বিরল কৃতিত্বের অধিকারী। 
ছাত্র জীবন থেকেই আ হ ম মুস্তফা কামালের রাজনীতিতে হাতেখড়ি। কলেজ জীবনের পুরোসময়ই তিনি ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান এবং ৭০’র ঐতিহাসিক নির্বাচনের সময় তিনি আওয়ামী লীগের একজন নিবেদীত সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রার্থী হয়ে ১৯৯৬ সালে তৎকালীন কুমিল্লা-৯ সদর দক্ষিণ (যা বর্তমানে কুমিল্লা-১০ সদর দক্ষিণ, লালমাই, নাঙ্গলকোট) সংসদীয় আসন থেকে প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময়ে তিনি পাবলিক একাউন্টস কমিটির সদস্য, বিনিয়োগ বোর্ডের সদস্য, প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সদস্য, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, যাকাত বোর্ডের সদস্য এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত আছেন। ২০০৬ সালের ১২ মে থেকে তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১০ নির্বাচনী এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রার্থী হয়ে দ্বিতীয় বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত তিনি অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১০ আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রার্থী হয়ে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে সরকারের পুরো মেয়াদে তিনি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি একই আসন থেকে চতুর্থবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
সম্প্রতি লন্ডন ভিত্তিক একটি মাসিক ম্যাগাজিন ‘The Banker’ বাংলাদেশের আর্থিক খাতে অবদানের জন্য তাকে এশিয়া-প্যাসিফিক এবং গ্লোবাল এর ২০২০ সালের বর্ষসেরা অর্থমন্ত্রী হিসাবে ভূষিত করেছে। তিনিই প্রথম বাংলাদেশি অর্থমন্ত্রী যিনি এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
আ হ ম মুস্তফা কামাল একজন বিখ্যাত ক্রিকেট পৃষ্ঠপোষক। গত ত্রিশ বছর ধরে ক্রিকেটের সাথে সম্পৃক্ত থেকে তিনি এর উন্নয়নে বিভিন্ন দায়িত্বে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকে লোটাস কামাল পেস বোলিং ক্রিকেট একাডেমী প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রথিতযশা ক্রিকেট ক্লাব আবাহনী লিমিটেডের সাবেক পরিচালক মুস্তফা কামাল ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্লাবগুলোর ক্রিকেট কমিটির সভাপতি ছিলেন। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণের পূর্বকালীন সময়ে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্তিতে নেতৃত্ব দেন তিনি। ২০১২-১৩ মৌসুমে ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সকল খেলোয়াড়কে বিসিবি’র কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় নিয়ে আসেন। 
তিনি সেপ্টেম্বর, ২০০৯ থেকে অক্টোবর, ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ দায়িত্ব পালনকালে ২০১২ - ২০১৪ মেয়াদে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন। আইসিসি’র অডিট কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ থেকে ২০১২ মেয়াদকালে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)’র সভাপতি ছিলেন তিনি। ২৬ মে, ২০১৪ তারিখে আইসিসি’র ১১শ সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে আম্পায়ারিংয়ের মানের বিষয়ে সংক্ষুদ্ধ হয়ে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা হিসেবে বিশ্বকাপ ট্রফি হস্তান্তরে সভাপতিকে এড়িয়ে যাওয়ার প্রতিবাদস্বরূপ এপ্রিল ১, ২০১৫ তারিখে সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। দেশের ভাবমূর্তি ও সম্মানকে সর্বোচ্চ স্থান দিতে আইসিসি সভাপতি পদের মোহও তাঁকে পদত্যাগে বাধাগ্রস্ত করতে পারেনি।
আ হ ম মুস্তফা কামাল পরিবারে তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তাঁর স্ত্রী কাশমেরী কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর এবং একজন সফল ব্যবসায়ী। দুই কন্যা সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে কাশফী কামাল মিনেসোটার সেন্ট ক্লাউড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবং ছোট মেয়ে নাফিসা কামাল এমআইটি থেকে স্নাতক। নাফিসা কামাল বাবার মতো ক্রীড়ানুরাগী ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের চেয়ারপার্সন।

 



Share with :

Facebook Facebook