অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৮ অক্টোবর ২০১৫

লটারী নীতিমালা ২০১১

১।       শিরোনাম, প্রবর্তন ও পরিধি ঃ

(ক)     এ নীতিমালা জাতীয় লটারী নীতিমালা, ২০১১ নামে অভিহিত হবে;

(খ)     ইহা জারির তারিখ হতে বলবৎ হবে; এবং

(গ)     সমগ্র বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য হবে।

২।       সংজ্ঞা ঃ

(ক)     কর্তৃপক্ষ-কর্তৃপক্ষ বলতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়-কে বুঝাবে;

(খ)     প্রতিষ্ঠান-প্রতিষ্ঠান বলতে লটারী অনুষ্ঠানের জন্য আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান/সংস্থা/কর্পোরেশন-কে বুঝাবে;

(গ)     মূল্যমান-মূল্যমান বলতে লটারীর টিকেটের মূল্যমান বুঝাবে;

(ঘ)     সময় সীমা-সময় সীমা বলতে লটারীর টিকিট বিক্রয়ের জন্য সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সময় সীমা বুঝাবে; এবং

(ঙ)     অনুষ্ঠানের শর্তাবলী-অনুষ্ঠানের শর্তাবলী বলতে এ নীতিমালার ৭ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত শর্তাবলী এবং লটারী অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত শর্তাবলী বুঝাবে।

 

৩।      প্রতিষ্ঠান নির্বাচন পদ্ধতি ঃ

 

(ক)     শুধুমাত্র সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান, স্বশাসিত সংস্থা, কর্পোরেশন, স্থানীয় এবং সামাজিক স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক কাজে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানসমূহকে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সুনির্দিষ্ট প্রকল্প/উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের নিমিত্ত লটারী অনুষ্ঠানের অনুমতি প্রদান করা যাবে;

(খ)     জাতীয় পর্যয়ে বিনামূল্যে অথবা নামমাত্র মূল্যে গরীব রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী এবং গরীব ও মেধাবী  ছাত্র/ছাত্রীদের শিক্ষার ক্ষেত্রেও আর্থিক সহায়তাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে সুনির্দিষ্ট প্রকল্প বাস্তাবায়নের লক্ষে অগ্রাধিকার প্রদান করা যাবে;

(গ)     প্রতিবন্ধীদের সহায়তাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে সুনির্দিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষে অগ্রাধিকার প্রদান করা যাবে; এবং

(ঘ)     প্রতিষ্ঠান নির্বচনের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে নিজস্ব কর্মকর্তা দ্বারা তদন্তপূর্বক বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

৪।       আবেদন পদ্ধতি ঃ

(ক)     সরকার নির্ধারিত এ নীতিমালায় পরিশিষ্ট ‘ক’ ফরমে লটারী অনুষ্ঠানের আবেদন করতে হবে;

(খ)     আগ্রহী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রম এর সংক্ষিপ্ত বিবরণ আবেদনে তুলে ধরতে হবে  এবং প্রমাণক কাগজ/দলিলাদি সংযুক্ত করতে হবে;

(গ)     প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য আয়ের উৎস সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে আবেদনে উল্লেখ করতে হবে;

(ঘ)     প্রস্তাবিত প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ আবেদনে তুলে ধরতে হবে এবং প্রমাণক কাগজ/দলিলাদি সংযুক্ত করতে হবে।

(ঙ)     আবেদনের সাথে পূর্ববর্তী বছরের অডিট রিপোর্ট ও পূর্বে অনুষ্ঠিত লটারীর মাধ্যমে (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) প্রাপ্ত অর্থের আয়-ব্যয়ের হিসাব দাখিল করতে হবে; এবং

(চ)      আবেদনকরাী প্রতিষ্ঠানটি যে মন্ত্রণালয়ে/বিভাগের কার্যপরিধির আওতাভুক্ত সে মন্ত্রণালয়/বিভাগ এবং প্রস্তাবিত প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের সুস্পষ্ট মতামতের ভিত্তিতে আবেদন বিবেচনা করা হবে।

 

৫।       টিকিটের মূল্যমান ঃ     

(ক)     প্রতিটি টিকিটের মূল্যমান আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করবে;

(খ)     টিকিটের মূল্যমান সর্বোচ্চ ২০ টাকা নির্ধারিত হবে।

৬।      সময়-সীমাঃ

(ক)     টিকিট বিক্রয়ের সর্বোচ্চ সময় সীমা হবে ৪৫ দিন;

(খ)     টিকিটের গায়ে টিকিট বিক্রির শেষ তাখি ও ড্র এর তারিখ উল্লেখ করতে হবে;

(গ)     লটারী অনুষ্ঠানের সময় সীমা সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) দিনের মধ্যে ‘ড্র’ অনুষ্ঠান করতে হবে;

(ঘ)     একই সময় সীমার মধ্যে একাধিক প্রতিষ্ঠানকে লটারি অনুষ্ঠানের অনুমতি প্রদান করা যাবে না;

(ঙ)     একবার লটারী অনুষ্ঠানের পর কোন প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় দুই বছরের মধ্যে লটারী অনুষ্ঠানের অনুমতি প্রদান করা যাবে না।

(চ)      টিকিট বিক্রির জন্য অনুমোদিত সময় সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর কোনক্রমেই লটারির টিকিট বিক্রি করা যাবে না; এবং

(ছ)     পবিত্র রমযান মাসে লটারী অনষ্ঠানের অনুমতি প্রদান করা যাবে না।

৭।       লটারী পরিচালনা/অনুষ্ঠানের শর্তাবলী ঃ

(ক)     পুরস্কারসহ লটারী অনুষ্ঠানের সমূদয় ব্যয় বিক্রিত টিকিটের মূল্যমানের অনূর্ধ ৪৫% এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে;

(খ)     আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ৫৫ ধারা মোতাবেক উৎসে আয়কর কর্তন করে সংশ্লিষ্ট খাতে জমা দিতে হবে;

(গ)     লটারী অনুষ্ঠানকারী প্রতিষ্ঠান প্রদেয় উৎসে আয়কর সরকারি কোষাগারে সংশ্লিষ্ট খাতে জমা প্রদান করে সংশ্লিষ্ট আয়কর আদায়কারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবে;

(ঘ)     মূল্য সংযোজন কর আইন ১৯৯১ অনুযায়ী টিকিট বিক্রয়কারীর উপর মূল্য সংযোজন কর প্রদেয়/কর্তনযোগ্য হবে;

(ঙ)     লটারী অনুষ্ঠানকারী প্রতিষ্ঠান প্রদেয় মূল্য সংযোজন কর সরকারী কোষাগারে সংশ্লিষ্ট খাতে জমা প্রদান করে সংশ্লিষ্ট মূল্য সংযোজন কর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবে;

(চ)      লটারী অনুষ্ঠানের অনুমতি কোন ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের নিকট কোন অবস্থাতেই বিক্রয়/হস্তান্তর করা যাবে না;

(ছ)     কোন প্রকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা হাসপাতাল বা ক্লিনিকের মাধ্যমে বা উহার অভ্যন্তরে লটারির টিকিট বা বিক্রয়ের জন্য প্রচার করা যাবে না;

(জ)     এজেন্ট নিয়োগ এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লটারির টিকিট বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্যাদি টিকিট বিক্রয় শুরুর পূর্বেই কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে;

(ঝ)     টিকেট বিক্রি শুরু থেকে ‘ড্র’ অনুষ্ঠান পর্যন্ত যে কোন সময় প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ সামগ্রিক কার্যক্রম পরিদর্শন করতে পারবে;

(ঞ)    লটারীর ‘ড্র’ কমিটিতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের একজন কর্মকর্তাকে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।

(ট)      ‘ড্র’ অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণকালে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সদস্যের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে;

(ঠ)      শুধুমাত্র বিক্রিত টিকিটের মধ্যেই লটারীর ‘ড্র’ অনুষ্ঠানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে;

(ড)     টিকিট বিক্রয় সংক্রান্ত গ্রস আয়ের পরিমাণ এবং লটারীর জন্য বিবেচ্য টিকিটের পূর্ণাঙ্গ তালিকায় ‘লটারী ড্র কমিটি’ এর সকল সদস্যের স্বাক্ষরের পর ‘ড্র’ অনুষ্ঠান করতে হবে;

(ঢ)      লটারি অনুষ্ঠানে ২ (দুই) মাসের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ নিশ্চিত করে পুরস্কার বিতরণ সংক্রান্ত তথ্যাদি অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে প্রেরণ করতে হবে ;

(ণ)      বর্ণিত নীতিমালার অনুচ্ছেদ ৭ (খ), ৭(গ), ৭(ঘ) ও ৭(ঙ) এর আলোকে প্রদেয় রাজস্ব সরকারী কোষাগারে জমা প্রদান সংক্রান্ত তথ্যাদি লটারী ‘ড্র’ অনুষ্ঠানের ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে অত্র বিভাগের সচিব বরাবরে দাখিল করতে হবে; এবং

(ত)     সরকার কর্তৃক নিবন্ধনকৃত কোন সি, এ ফার্মের দ্বারা নিরীক্ষা সম্পাদনপূর্বক লটারির টিকিট বিক্রয়লব্ধ সমূদয অর্থের আয় ও ব্যয়ের হিসাব বিবরণীর ৩ (তিন) টি কপি ‘ড্র’ অনুষ্ঠানের ৩ (তিন) মাসের মধ্যে অত্র বিভাগে দাখিল করতে হবে।

৮।      ক্ষমতা সংরক্ষণঃ

(ক)     অনুচ্ছেদ ৭ এ বর্ণিত যে কোন শর্ত ভঙ্গের কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা যাবে; এবং

(খ)     লটারী অনুষ্ঠানের জন্য প্রাপ্ত যে কোন আবেদন প্রত্যাখ্যান, অনুমোদন এবং প্রদত্ত অনুমোদন বাতিল করার অধিকার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করেন।

 

Doc1.docx Doc1.docx

Share with :